মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব

ওয়ালী উলস্নাহ নওজোয়ান (১৯১৩-১৯৭৫)

ফরিদগঞ্জ উপজেলার চররামপুর গ্রামে জানুয়ারী ১৯১৩ সনে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ওয়াজউদ্দিন সরদার। ১৯২৪ এ তিনি চাঁদপুর থেকে প্রবেশিকা পরীÿায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৩৩ সনে কুমিলস্না কলেজ থেকে আইএসসি পাশ করেন। এরপর তিনি বরিশাল ব্রজমোহন কলেজে বিএসসিতে ভর্তি হন। ঐ বৎসরই কলিকাতা বঙ্গবাসী কলেজে ভর্তি হন এবং ১৯৩৬ সালে বিএসসি পাশ করেন।

কর্মজীবনের শুরম্নতেই তিনি কলিকাতায় শিল্প গবেষনা পদে চাকুরী কালীন সময়ে তার গবেষনালব্ধ কচুরী পাতা হতে হার্ডবোর্ড আবিস্কার করে মেধার স্বাÿর রাখেন। ছাত্র জীবন থেকেই রাজনীতির হাতেখড়ি। সামাজিক ও জনহিতকর কাজে ছিল তার অদম্য প্রাণশক্তি।  চাঁদপুর তিনি আঞ্জুমানে খাদেমুল ইসলাম গঠন করে বেওয়ারিশ লাশ দাফন ও গোরস্থানের ব্যবস্থা করেন। কলিকাতায় চাঁদপুর মুসলিম সমিতি নামে সেবামূলক সংগঠন গড়ে তোলেন। বিশ্বযুদ্ধের সময়ে ÿুদা ও দুর্ভিÿ মোকাবেলায় যুব সম্প্রদায়কে সংগঠনকরে তার নেতৃত্বে গঠিত হয় বঙ্গীয় নওজোয়ান পার্টি। যারা দাঙ্গা, ÿুদা, দুর্ভিÿÿ পিড়ীত মানুষের সেবায় পাশে এসে দাঁড়ায়।

১৯৪৭ সনে ফরিদগঞ্জ থানা এলাকা হতে কুমিলস্না জেলা বোর্ডের মেম্বার হন। তিনি ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৫৪ সালে তিনি যুক্তফ্রন্ট আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী হিসাবে ফরিদগঞ্জ থানা এলাকা হতে পূর্বপাক প্রশাসনিক পরিষদের এম.পি নির্বাচিত হন। প্রাদেশিক পরিষদে মাত্র তের মাস সময়ে তিনি ফরিদগঞ্জ কমিউনিটি কেন্দ্র, সাব রেজিষ্ট্রি অফিস ভবন, হাসপাতাল নির্মাণ ইত্যাদি জরম্নরী কাজ সমাধা করেন। তার চেষ্টার ফলে ফরিদগঞ্জ-চাঁদপুর রাসত্মার জন্য যুক্তফ্রন্টের সরকার ২৭ লÿ টাকা মঞ্জুরী প্রদান করে এবং তৎসময়ে রাসত্মার কিছু কাজ সম্পন্ন হয়।

১৯৭০ সনে তিনি আওয়ামীলীগ প্রার্থী হিসাবে বিপুল ভোটের ব্যবধানে আইডিপি প্রার্থীকে পরাজিত করে ফরিদগঞ্জ ও হাজীগঞ্জ নির্বাচনী এলাকা হতে জাতীয় পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সনে মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭২-৭৩ সন পর্যমত্ম চাঁদপুর রিলিফ কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৯৭২ সনে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নকারী এমসিএদের মধ্যে তিনিও একজন।

জনাব ওয়ালী উলস্নাহ নওজোয়ান চাঁদপুর হাসান আলী হাইস্কুল ও গণি মডেল হাই স্কুলে অংকের শিÿকতা করে অত্যমত্ম সম্মানের সঙ্গে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। জীবনের শেষ দশকে চাঁদপুর নুরিয়া মাদ্রাসাকে বিজ্ঞান ল্যাবরেটরী সহ একটি বাই লেটারেল হাইস্কুলে উন্নীত করেন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যমত্ম তিনি এই হাই স্কুলের প্রধান শিÿক ছিলেন।

নিলোর্ভ সৎ মানবসেবী এই মহান ব্যক্তিত্ব ১৯৭৫ সনের ১লা জানুয়ারী চাঁদপুরস্থ নিজ বাসভবনে নওজোয়ান মঞ্জিলে উচ্চ বক্তচাপ রোগে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি তিন ছেলে ও পাঁচ মেয়ের জনক ছিলেন।

নূরেজ্জামান ভুইয়া (১৯০২-১৯৬৯)

ফরিদগঞ্জ থানার রূপসা গ্রামে ঐতিহ্যবাহী ভুইয়া পরিবারে ১ জানুয়ারী ১৯০২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ফজর আলী। ১৯১৫ সালে নিজ অঞ্চল থেকে প্রবেশিকা পরীÿায় উত্তীর্ণ হন। ১৯১৭ সালে কলিকাতা লর্ড রিপন কলেজ থেকে আই.এ এবং ১৯২১ সালে ঐ কলেজ থেকে বি.এ পাশ করেন। তিনি ফরিদগঞ্জ থানার প্রথম গ্র্যাজুয়েট। পরবর্তীতে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনে অধ্যয়ন করেও রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে পড়ার কারণে সমাপ্ত করতে পারেন নি। তিনি শিÿা জীবন শেষে কলিকাতা ভিত্তিক উপমহাদেশীয় ব্রিটিশ বিরোধী রাজনীতিতে সক্রিয় ভুমিকা পালন করেন। শিÿা জীবন শেষে ১৯২১-১৯৩৫ সাল পর্যমত্ম একটানা স্বদেশীয় ব্রিটিশ বিরোধী রাজনীতিতে সর্বভারতীয় নেতৃবৃন্দের সংস্পর্শে আসার সুযোগ লাভ করেন এবং বিশেষ ভুমিকা পালন করেন।  খেলাফত আন্দোলন, অসহযোগ আন্দোলনে তিনি অবিভক্ত ভারত বর্ষের বিভিন্ন অঞ্চল সফর করেন। এই সময় তিনি মাওলানা মোহাম্মদ আলী মাওলানা শওকত আলী, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ প্রমুখ নেতার সানিধ্যে আসেন এবং সহযোদ্ধা হিসাবে কাজ করার সুযোগ পান এবং আন্দোলনে সক্রিয় ভুমিকা রাখেন। রাজনৈতিক প্রয়োজনে ১৯৩৫ সাল পর্যমত্ম তিনি কলিকাতায় বৈঠক খানা রোডে স্থায়ীভাবে বাস করেন। তিনি ঐ সময়ে অল ইন্ডয়া কংগেসের রাজনীতির সাথে হোসেন শহীদ সোহরাওয়াদী সহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথেযুক্ত হয়ে সার্বÿনিক রাজনীতিতে নিজেকে নিয়োজিত করেন।

বৃটিশ বিরোধী অবস্থানের কারণে তদকালীন অবিভক্ত ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় জোনের কোল কন্ট্রলার ও ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পদের চাকুরীর প্রসত্মাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং রাজনীতিতে সময়ের অভাব হবে বিবেচনায় রেঙ্গুনে বিদেশী কোম্পানীর লোভনীয় চাকুরীর প্রসত্মাব নাকচ করে দেন। নিজ অঞ্চলের সাথে রাজনৈতিক যোগাযোগ স্থাপন করে রাজনীতিতে আরো সক্রিয় হন। একই সংগে তিনি নিজ অঞ্চলে শিÿকতাকে ব্রত হিসাবে গ্রহণ করেন। রূপসা উচ্চ বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন শিÿকতা করেন। বর্তমান শাহরাসি্ত্ম থানার চিতোষী উচ্চ বিদ্যালয় সহ দামোর্দদি উচ্চ বিদ্যালয়, আমিরবাজ উচ্চ বিদ্যালয় ও অন্যান্য শিÿা প্রতিষ্ঠান তার নিরলস অবদানে আজ সু-প্রতিষ্ঠিত। ফরিদগঞ্জ এ. আর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়কে তিনি বাই লেটারের মর্যাদায় উর্ন্নীত করেন এবং এখানে প্রায় পনের বৎসর প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিÿক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রবল প্রতিকুলতার মাঝেও বিদ্যালয়ের জন্য একটি বিশাল খেলার মাঠের ব্যবস্থা করেন।

সম্ভ্রামত্ম শামমত্ম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও তিনি আজীবন ছিলেন সাধারণ মানুষের পÿÿ। যার ফলে অনেক বিড়াম্বনায় পড়তে হয়েছে তাকে। ১৯৩৭ সনে লাকসাম-মতলব-চাঁদপুর নিয়ে গঠিত এলাকা থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করেন। ১৯৪৬ সালে বেঙ্গল লেজিসলেটিভ এসেমলির সদস্য পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করেন। ৫৪’ সালে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে তিনি দেশ ও জাতীয় বৃহত্তর স্বার্থে হক-ভাষানী-সোহরাওয়াদী সহ বৈঠকে শেরে বাংলা ফজলুল হকের অনুরোধের প্রেÿÿতে তার মনোনীত প্রার্থীকে যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হিসাবে সমর্থন করে নিজ প্রার্থী পদ প্রত্যাহার করেন। এ সময়ে শহীদ সোহরাওয়াদী এবং মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী রূপসায় আগমন করেন। তিনি কুমিলস্না জেলার বেসরকারী বিদ্যালয় সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কাগমারী সম্মেলন এ বিশেষ ভুমিকা পালন করেন। ৫৪’ ফ্রন্টের নির্বাচনে হক-ভাসানী-সোহরাওয়াদী সারাদেশে রাজনৈতিক সফরে অংশগ্রহণ করেন।

তিনি সামাজিক সাংস্কুতিক সংগঠনকে পৃষ্ঠপোষকতায় সর্বদা সহায়তা করেছেন। তার চেষ্টায় রূপসা হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়। কুমিলস্নায় স্কাউট আন্দোলনেও তার ভুমিকা উলেস্নখযোগ্য। তিনি অত্যাচারী ইংরেজ ও স্থানীয় সমসত্ম জমিদারের বিরম্নদ্ধে দৃঢ়তার সাথে অবস্থান নেন। তিনি ইংরেজী, ফার্সী, উর্দু, হিন্দি, আরবী বিভিন্ন ভাষার পারদর্শী ছিলেন।

একজন সৎ উদার মনের দরদী ব্যক্তি হিসাবে আজও মানুষের কাছে স্মরনীয়। ১৯৬৯ সালের ১৩ নভেম্বর রক্তচাপ জনিত রোগে রূপসায় নিজ বাড়ীতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি চার ছেলে ও দুই মেয়ের জনক ছিলেন।

আইউব আলী খান (১৯০৩-১৯৯১)

ফরিদগঞ্জ থানার সাহেবগঞ্জ গ্রামে আনুমানিক ১৯০৩ সনে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম উমেদ আলী খান। তিনি ১৯২০ সনে বর্তমান লক্ষ্মীপুর জেলার রামপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রবেশিকা পরীÿায় উত্তীর্ণ হন। ১৯২২ সালে বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথেই আই.এ পাশ করেন।

শিÿকতার মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরম্ন হয়। তিনি ১৯২৩ সন থেকে ১৯২৬ সাল পর্যমত্ম রায়পুর উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিÿক হিসাবে দÿতার সাথে দায়িত্বভার পলন করেন। ১৯২৬ সালেই গৃদকালিন্দিয়া এম.ই স্কুল স্থাপন করে নিজে প্রধান শিÿকতার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। সুদীর্ঘ ২৩ বৎসর তিনি এই গুরম্ন দায়িত্ব পালন করেন। এ সময়ে এ স্কুল থেকে প্রায় ৪০ জন মেধাবী ছাত্র বৃত্তি পায়। ১৯৪৮ সালে মেয়েদের শিÿার উন্নতি করে প্রথমে গৃদকালিন্দিয়া নিমণ বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন ও পরে তিনি উচ্চ বিদ্যালয়ে পরিনত করেন।

তিনটি বিদ্যালয়ের জন্য নিজের জায়গাসহ বাড়ীর অন্যান্য শরীকানাদের জায়গা নিয়ে বিরাট খেলার মাঠের ব্যবস্থা করেন। যার ফলে শরিকানাদের বিরাগ ভাজন হয়ে ঘর ছেড়ে, এলাকা ছেড়ে দুইমাস আত্মগোপন করে থাকেন। পরবর্তীতে তার আমত্মরিক চেষ্টায় শরীকান ও আত্মীয়স্বজনদের ব্যবহৃত জমি বাবদ সররকারী অধিগ্রহণ করিয়ে ÿতিপূরণের ব্যবস্থা করে দেন। পর্যায়ক্রমে এই ৫.৯০ একর জমির উপর প্রাথমিক বিদ্যালয় (বালক-বালিকা), মাধ্যমিক বিদ্যালয় (বালক-বালিকা), মহাবিদ্যালয় নিয়ে বর্তমানে এক বিশাল শিÿা কমপেস্নক্মে পরিনত হয়। যাহা এলাকায় আইয়ূব আলী খান শিÿা কমপেস্নক্ম নামে প্রতিষ্ঠিত। ১৯৩৩ সালে নিজের ও বড় ভাই এর জায়গা দান করে গৃদকালিন্দিয়া বাজার স্থাপন করেন। ১৯৪৩ সালে পোষ্ট অফিস, কমিউনিটি সেন্টার, পূবালী ব্যাংক ও মসজিদসহ আধুনিক জনকল্যানকর প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। উলেস্নখ্য তার মোট সম্পত্তির অর্ধেকের বেশী প্রায় দুই একর জায়গা জনহিত কর কাজে দান করেন। তিনি ৩০ বৎসর যাবৎ কুমিলস্না সেসন জজ কোর্টের স্পেশাল জুরার ছিলেন।

তার রাজনীতি ছিল শোষিত নিপিড়িত মানুষের পÿÿ। তৎকালীন সমাজের শামমত্ম প্রভু ও জমিদারদের বিরম্নদ্ধে ছিল তার আপোষহীন সংগ্রাম। জমিদারদের বিরম্নদ্ধে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করে তিনি কয়েকবার ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট ও চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। ৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ৫৪ এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে তার প্রত্যÿ ভুমিকা আন্দোলন ও সংগ্রাম আরো বেগমান করেছে। তিনি ৫৪’ সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে ঐক্যমতের ভিত্তিতে হক-ভাসানী-সোহরাওয়াদীর বৃহত্তর ঐকের প্রাথী মনোনয়ন ও নির্বোচনে উলেস্নখযোগ্য অবদান রাখেন। স্বাধীনতা যুদ্ধেও তার দান ছিল অপরিসীম। ৭১’এর মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকবাহিনী তার ঘর সহ বাড়ীর বহু ঘর জ্বালিয়ে দেয়। তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও ঐদিন পাক-বাহিনী পাঁচ জনকে গুলি করে হত্যা করে।

জনাব আইয়ূব আলী খান সারাজীবন নিজেকে অর্থ বিত্ত মানুষের কল্যাণে বিলিয়ে দিয়ে শেষ জীবনে চরম আর্থিক সংকটে পড়েন। এমনকি নিজের চিকিৎসারও কোন সুব্যবস্থা করতে পারেন নি। সমত্মান সন্তুতির জন্য কিছু রেখে যান নি। ১৯৯১ সালের ১লা অক্টোবর নিজ গ্রামের বাড়ী গৃদকালিন্দিয়াতে এই মহান ব্যক্তি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি তিন ছেলে ও তিন মেয়ের জনক ছিলেন।

লেঃ কর্নেল (অবঃ) আবু ওসমান চৌধুরী 

লেঃ কর্নেল (অবঃ) আবু ওসমান চৌধুরী ১৯৩৫ সালের ১লা জানুয়ারী চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলাধীন মদনেরগাঁও গ্রামে জম্মগ্রহন করেন। তাঁর পিতা আব্দুল আজিজ চৌধুরী ছিলেন স্কুল শিÿক। আবু ওসমান চৌধুরী ২ বছর বয়সে মাতৃহারা হন। তাঁর গ্রামের প্রাইমারী স্কুলে প্রাথমিক শিÿা শেষে চান্দ্রা ইমাম আলী হাই স্কুল থেকে ১৯৫১ সনে ১ম বিভাগে মেট্রিক পাশ করে ঢাকা কলেজে বিজ্ঞান ভর্তি হন। ১৯৫২ সালে ভাষা অন্দোলনে তিনি সক্রিয় অংশ গ্রহন করেন। পরবর্তীতে ১৯৫৪ সালে চাঁদপুর কলেজ থেকে ইন্টামিডিয়েট ও ১৯৫৭ সালে কুমিলস্না ভিক্টরিয়া কলেজ থেকে বি.এ পাশ করেন। সেনাবাহিনীতে কমিশনের জন্য নির্বাচিত হন। সেনাবাহিনীতে কমিশনের জন্য নির্বাচিত হয়ে ১৯৫৮ সনের জানুয়ারি মাসে তিনি তৎকালীন পশ্চিম পাকিসত্মানের কোহাটে অবস্থিত অফির্সাস ট্রেনিং স্কুলে (ও.টি.এস) যোগদান করেন এবং ১২ই সেপ্টেম্বর ১৯৫৮ সনে পাকিসত্মান সেনাবাহিনীতে কমিশন প্রাপ্ত হন। ১৯৬৮ সনে এপ্রিল মাসে তিনি মেজর রেঙ্কে প্রমোশন লাভ করেন। তিনি ১৯৬০ সালের ২৫ মার্চ নাজিয়া খানম এর পাণিগ্রহন করেন। তাঁর দুই কন্যা নাসিমা ওসমান ও ফাওজিয়া ওসমান। নাসিমা ওসমানের স্বামী ডাঃ তারেক উদ্দিন আহমেদ একজন শিল্পপতি এবং ফাওজিয়া ওসমানের স্বামী ইসমাইল মনসুর ফ্লেরিডায় কর্মরত আছেন। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর তিনি পূর্ব পাকিসত্মানে বদলীর প্রচেষ্টা করতে থাকেন তাই জি এইচ কিউ রাওয়ালপিন্ডিতে কার্যরত তৎকালীন মেজর অনোয়ার উলস্নাহ ও ক্যাপ্টেন জিয়াউদ্দিনের সহায়তায় তিনি পূর্ব পাকিসত্মান রাইফেলস-এ (বি.ডি.আর) বদলী নিয়ে ২৫ ফ্রেব্রম্নয়ারি  ১৯৭১ চুয়াডাঙ্গায় অবস্থিত ৪র্থ উইং  এর অধিনায়কত্ব গ্রহন করেন।  ২৫ মার্চ ১৯৭১ রাত ঢাকার বুকে পাকিসত্মানে সেনাবাহিনীর বর্বরোচিত আক্রমন ও গণহত্যার খবর পেয়ে মেজর ওসমান ২৬ মার্চ তাঁর বাহিনী সহকারে পাকিসত্মানের বিরম্নদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। ২৯ মার্চ যশোর থেকে আগত একজন পাকিসত্মানি ক্যাপ্টেন ৩ জন সৈনিক তাঁর এলাকাতে ছোট একটি সংঘর্ষে নিহত হবার পর মেজর ওসমান আমত্মর্জাতিক সীমানায় অবস্থিত তাঁর ৪ কোম্পানী সৈন্যকে অগ্রগামী (এ্যাডভান্স) করে স্থানীয় জনগণের সহায়তা নিয়ে ৩০ মার্চ কুষ্টিয়া আক্রমন করেন এবং সেখান অবস্থানরত ৪ জন অফিসার ও ২০০ পাকিসত্মানি সৈন্যের এক বিরাট বাহিনীকে সম্পূর্ণরম্নপে নিশ্চিহৃ করে কুষ্টিয়া জেলা শত্রম্নমুক্ত করেন। ১৭ এপ্রিল ৭১ তাঁর এলাকাধীন মেহেরপুরের অমত্মর্গত বৈদনাথতলা গ্রামের আম্রকাননে বিশ্বের ৩৯টি দেশের শতাধিক সাংবাধিকদের উপস্থিতিতে নবগটিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী পরিষদ প্রকাশ্যে বাংলার মাটিতে শপথ গ্রহনের পর মেজর ওসমান তাঁর যুদ্ধক্লামত্ম এক পস্না-টুন সৈন্য দ্বারা মন্ত্রী পরিষদকে গার্ড-অব-অনার প্রদান করেন। সেনাবাহিনীর লেঃ কর্নেল হিসাবে কর্মরত অবস্থায় ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর গঠিত সিপাহী বিদ্রোহে তাঁকে না পেয়ে সিপাহীরা তাঁর স্ত্রীকে হত্যা করে। তারপর তাঁকে অন্যায়ভাবে অকালীন অবসর প্রদান করা হয়। নতুন প্রজম্মের কাছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেÿাপট ও প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরার এক দুঃসাধ্য কাজে তিনি মনোনিবেশ করেন। অক্লামত্ম পরিশ্রমের ফলে ১৯৯১ সালের ৭ মার্চ তিনি জাতিকে উপহার প্রদান করেন ১৯৪৭ এর স্বাধীনতা থেকে ১৯৭১ এর স্বাধীনতায় উত্তরণের ধারাবাহিক ইতিহাস সম্বলিত এক অমূল্য গ্রন্থ-এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রমাণ্য দলিল এই বইখানি ১৯৯৩ সনে অন্যতম শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ হিসেবে বাংলাদেশ ইতিহাস পরিষদ কর্তৃক পুরস্কৃত হয় এবং একই বছর ফরিদপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি উন্নয়ন সংস্থা কর্তৃক আলাওল সাহিত্য পুরস্কার দ্বারা ভূষিত করা হয়। সম্পাদনা পরিষদের সভাপতি হিসাবে তাঁর তত্ত্ববধানে এক নজরে ফরিদগঞ্জ নামক একখানি তথ্যবহুল গ্রন্থও তৎপূর্বে প্রকাশিত হয়। তাঁর সময়ের অভিব্যক্তি নামক সংকলিত বইটি ১৭ এপ্রিল ১৯৯ তে, সোনালী ভোরের প্রত্যাশা সংকলন ২ জানুয়ারি ১৯৯৬ এবং বঙ্গবন্ধুঃ শতাব্দীর মহানায়ক সংকলনটি একই বৎসর ২ আগষ্ট প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশে স্বাধীনতা সংগ্রামে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের নিমিত্তে গঠিত গণ-আদালত এর অন্যতম বিচারক হিসাবেও তিনি বিশেষ ভূমিকা রাখেন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাসত্মবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নিমূল জাতীয় সমন্বয় কমিটি এর অন্যতম সংগঠক ও কেন্দ্রীয় নেতা হিসাবে তিনি জাতীয় দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। সাংবাদিক ও শিল্প-সমালোচক রফিক ইসলাম কর্তৃক কর্নেল ওসমানকে নিয়ে নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য প্রমাণ্য চলচ্চিত্র অসলো থেকে সোনালী পদকে পুরস্কৃত করা হয়। কর্নেল ওসমান বর্তমানে ঢাকাস্থ ফরিদগঞ্জ থানা কমিটির প্রদান পৃষ্ঠপোষক, চান্দ্রা ইমাম আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের কলেজ শাখায় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরম্নপে শিÿা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে এক ব্যাপক ভূমিকা রেখে চলেছেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের এই বীর সেনানী ১৯৯৫ সালের জুলাই মাসে থানার সমুখস্থ শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ নিরস্থ জনগনের তালিকা সম্বলিত অপূর্ব সুন্দর ফরিদগঞ্জ-শহীদ-স্মৃতিসত্মম্ভ প্রতিষ্ঠিত করেন। আমরা তাঁর অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করি। একই সাথে মহান আলস্নাহর কাছে তাঁর দীর্ঘায়ু,সুস্বাস্থ্য ও শামিত্মময় জীবন কামনা করি।

আমির হোসেন খান

চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ থানাধীন মূলপাড়া গ্রামের বিশিষ্ট সমাজ সেবক মরহুম সামসুদ্দিন খানের ৫ পুত্র ৪ কন্যার মধ্যে জেষ্ঠ্য আমির হোসেন খান। ১৩৫১ বাংলা সনের ১৭ই বৈশাখ বুধবার জম্ম গ্রহন করেন। মূলপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, কামরাঙা জুনিয়র হাই স্কুল, সিংহেরগাঁও (পাইকপাড়া) গোবিন্দিয়া হাই স্কুল পেরিয়ে চান্দ্রা ইমাম আলী  উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬০ সালে মেট্রিক পাশ করে চাঁদপুর কলেজে ভর্তি হন। জীবিকার তাড়নায় প্রাতিষ্ঠানিক শিÿা সম্ভব না হওয়ায় প্রাইভেট এইচ.এস.সি ঢাকার নজিমুদ্দিন কলেজে (সান্ধ্যকালীন) অধ্যয়নের মাধ্যমে বি.কম পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউট অব বিজনেস এডমিনিষ্ট্রেশন (আই.বি.এ) সান্ধ্য কালীন এম.বি.এ কোর্সে ৪ বছর অধ্যায়ন করেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের কারনে এম.বি.এ ডিগ্রি অর্জন সম্ভব হয়নি। ১৯৬১ সাল থেকেই বিভিন্ন ছোটখাট চাকুরীর পাশাপাশি ১৯৬৭ সাল থেকে ব্যক্তিগত ব্যবসায় আত্ননিয়োগ করেন। তার ধারাবাহিকতায় তিনি হিমালয় গ্রম্নপ অব কোম্পানীজ চেয়ারম্যান। এলিট প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজেস এর পরিচালক, সমতা টেক্রটাইল মিলস লিঃ এর পরিচালক, অর্নিবান শিল্প লিঃ এর চেয়ারম্যান একজন ব্যবসায়ী সংগঠক হিসাবে দেশের সর্ববৃহৎ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ইলেকট্রনিকস মার্চেন্টস এসোসিয়েশনের সভাপতি, বাংলাদেশ স্পোর্টস গুডস ম্যানুফেকচারার এর সভাপতি, বাংলাদেশ স্পোর্টস গুডস ম্যানোফ্যাকচারার্স ইমপোর্টাস ও মার্চেন্টস এসোসিয়েশনের সভাপতি, বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড nmwcUvjইকুইপমেন্ট ম্যানুফেকচারার্স এন্ড ডিলারস এসোসিয়েশনের মহাসচিব, এফবিসিসিআই, এনবিআর বাজেট টাস্কর্ফোস-এর সদস্য। একজন সমাজকর্মী হিসাবে ১৯৭২ সনের জানুয়ারি মাসে সংগঠিত বাংলাদেশ গ্রামীণ যুব সমিতির প্রতিষ্ঠতা সভাপতি,ন্যাশনাল ইয়ুথ কাউন্সিল অব বাংলাদেশের সহ-সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। জনাব খান ১৯৮৫ সালে সংগঠিত বাংলাদেশ সেচ্ছাসেবী যুব সংগঠন সমূহের সমন্বয়কারী জাতীয় সংস্থা ‘‘ন্যাশনাল ফেডারেশন অব ইয়থ অর্গানাইজেশন ইন বাংলাদেশ (যুব ফেডারেশন) এর প্রতিষ্ঠাতার চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি ১৯৭৮ সালে মরহুম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর পৃষ্ঠপোষকতায় গঠিত জাতীয় যুব সংস্থার প্রতিষ্ঠাকালীন জাতীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি আমত্মর্জাতিক যুব সংগঠন জেসীস ইন্টারন্যাশনাল এর চ্যাপ্টার প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট, এক্রিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ১৯৭৯ সালে জাতীয় সভাপতি ছিলেন। জেসীসে সভাপতি থাকাকালীন জনাব খান প্রায় ৩০ টি Leder ship development Trainin programme পরিচালনাকরেন। জনাব খান ১৯৭৮ সালে মাদ্রাজে জেসীস ইন্টারন্যাশনাল (JCI) Asia pacific Conference এ Dy. Chief Delegate,১৯৭৮ সালে ম্যানিলয় JCI world Congressএ Chief delegate, ১৯৭৯ সালে হংকং এ JCI Asiapacific Conference এ Chief delegate,হিসাবে বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দেন। ১৯৮০ সালে JCI APDCমিশনের Co-Chairmanহিসাবে বাংলাদেশ জেসীস এর প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৯৭৬ সালে Japanএর Tojansoতে অনুষ্ঠিত Asia pacific Youth Conferenccএ বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দেন। ঐ সময় জাপানের yamanashi prefectureএ Agriculture and Co-Operative study programmeএর working Groupএর Chairmanহিসাবে দায়িত্ব পালন করেন এবং Conferenceএর একটি penal session এর সভাপতিত্ব করেন। জনাব খান ব্যবসায়ী প্রতিনিধি হিসাবে এশিয়া, ইউরোপের বিভিন্ন দেশের অসংখ্যক Seminar Symposium এ প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি ফরিদগঞ্জ থানা সমিতির সাবেক সভাপতি, চাঁদপুর জেলা সমিতির সভাপতি, বৃহত্তম কুমিলস্না জেলা সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য, ফরিদগঞ্জ বার্তা পাঠক ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য সহ নানাবিধ সমাজ ও জনকল্যাণ মূলক সংগঠনের সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত রয়েছেন। একজন ক্রীড়া সংগঠক হিসাবে জনাব খান ১৯৭৬-১৯৯৯ (২৩ বছর) পর্যমত্ম অমরজ্যোতি ক্লাব (প্রাচীন ক্রিকেট ক্লাব) এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তার স্ত্রী মিসেস মঞ্জুমা হোসেন একজন সমাজ কর্মী হিসাবে সুপরিচিত।  মিসেস খান ঢাকা কেপিটিল ললনা জেসীস এর সভাপতি, বাংলাদেশ জেসীসের সহ-সভাপতি ও প্রজেক্ট চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। এক ছেলে এস.এ.এম মঞ্জুর হোসেন খান সোহাগ দেশে-বিদেশে পড়া-লেখা শেষে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভারসিটি অব বাংলাদেশ এর কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়ের শিÿক। এক মেয়ে সামিনা হোসেন আমেরিকার প্যান সিলভানিয়া থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে ডিগ্রী নিয়ে ইনডিপেডেন্ট ইউনির্ভারসিটি অব বাংলাদেশে জুনিয়র লেকচারার হিসাবে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়েছেন। বিদ্যা উৎসাহী আমির হোসেন খান ১৯৬৮ সালে ফরিদগঞ্জের মূলপাড়ায় জুনিয়র হাই স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। যা বর্তমানে উচ্চ বিদ্যালয় হিসাবে প্রতিষ্ঠিত। ১৯৯৩ সালে প্রাক্তন ছাত্র সমিতির উদ্যোগে চান্দ্রা ইমাম আলী উচ্চ বিদ্যালয়কে কলেজ শাখায় উন্নীত করা কালীন সময়ে প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব পালন করেন। ৮০’র দশকে ফরিদগঞ্জ কলেজ এর দূর্দিনে ত্রাণ কর্তাদের মধ্যে জনাব খান অন্যতম। সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আলমগীর হায়দার খানের ঐকামিত্মক প্রচেষ্ঠায় প্রতিষ্ঠিত গলস্নাক আর্দশ কলেজ প্রতিষ্ঠালগ্নে অনুদান ছাড়াও ঢাকার কলেজের প্রথম সাংগঠনিক সভায় জনাব আমির হোসেন খান সভাপতিত্ব করেন। জনাব খান ১৯৯৬ সালে মূলপাড়ায় সামসুদ্দিন খান কারিগরি ও বানিজ্য কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।                        

শিল্পী হাসেম খান

মুহাম্মদ আবুল হাসেম খান, ৩ বৈশাখ ১৩৪৮, ১৬ এপ্রিল ১৯৪২, চাঁদপুরে জম্ম গ্রহন করেছেন। ১৯৬১ সালে গভর্নমেন্ট আর্ট ইনষ্টিটিউট থেকে চিত্রকলায় প্রথম শ্রেণীতে সণাতক। ১৯৬৩ পর্যমত্ম মৃৎশিল্পে রিসার্চ স্কলার ছিলেন। শিশু পুসত্মক চিত্রনে জাপানে স্বল্প-কালীন ট্রেনিং নিয়েছেন ১৯৭৯ সালে। ১৯৬৩ থেকে চারম্নকলা ইনষ্টিটিউটে অধ্যাপনা করেছেন। ষাটের দশক থেকেই দেশে চারম্নকলা বিকাশের আন্দোলনে, প্রগতিশীল সংস্কৃতি চর্চার পরিবেশ সৃষ্টির আন্দোলনে সর্বদা সক্রিয় এবং প্রায়শঃ সংগঠকের ভূমিকায় নিয়েজিত ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধা হাসেম খান নিয়মিতভাবে শিল্পকর্ম চর্চা অব্যাহত রেখেছেন দেশে-বিদেশে অসংখ্য শিল্পকর্ম প্রদর্শনীতে অংশগ্রহন করেছন। ১৯৯২,২০০০ও ২০০২ সালে নিজের চিত্রকলার প্রদর্শনী এবং ১৯৮৬ সালে টোকিওতে নিজের পুসত্মক চিত্রণের প্রদর্শনী করেছেন। শিল্পকলা বিষয়ে বিভিন্ন দেশের সেমিনার ও প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ভারত, চীন, জাপান, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, নেপাল, চেক প্রজতন্ত্র, সেস্নাভাকিয়া, বুলগেরিয়া, জর্মান, ফ্রান্স, নরওয়ে, ও ইংল্যান্ড সফর করেছেন পেশাগত কাজে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার সংবিধান গ্রন্থের প্রধান শিল্পী এবং এ পর্যমত্ম সহস্রাধিক বইয়ের ইলাষ্ট্রেশন ও প্রচ্ছদ অংকন করেছেন। ম্যুরাল করেছেন বাংলাদেশ বিমান বলাকা ভবন চত্ত্বর, চটগ্রাম আমত্মর্জাতিক বিমান বন্দর, ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া। শিল্পকলার ÿÿত্রে বিশেষ অবদানের জন্য জাতীয় পুরস্কার একুশে পদক ১৯৯২ সহ বঙ্গবন্ধু পুরস্কার ১৯৯১, অগ্রণী ব্যাংক শিশু সাহিত্য পুরস্কার ১৯৮৮ও ৯৪ চাঁদপুর ফাউন্ডেশন স্বর্ণপদক ১৯৮৮ এবং বইয়ের ছবি ও প্রচ্ছদের জন্য ১৪ বার জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পুরস্কার পেয়েছেন। ১৯৮৯ সালে বুলগেরিয়ান ৮ম আমত্মর্জাতিক তৈলচিত্রের ওয়ার্কশপে বাংলাদেশের প্রতিানধি হিসাবে যোগদান এবং ১৪ টি দেশের শিল্পীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ শিল্পী হিসাবে সম্মানিত হয়েছেন।  দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানিক সংগ্রহশালায় ব্যক্তিগত সংগ্রহে তাঁর চিত্রকর্ম সংগৃহিত আছে। ছোটদের জন্য ছবি অাঁকার ৪ টি বই এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের জন্য ৫ টি চারম্নকলা বিষয়ক পাঠ্য বই রচনা করেছেন। অন্যান্য উলেস্নখযোগ্য বই মানুষ জয়নুল আবেদীন, শিল্পী জয়নুল আবেদীন, চারম্নকলা পাঠ, গুলিবিদ্ধ একাত্তুর, দুজন শিÿক-আমি ছাত্র ড্রইং কথা স্কেচ কথা ও ছবি অাঁকার ছবি লেখা প্রাক্তন চেয়ারম্যান বাংলাদেশ শিশু একাডেমী ঢাকা। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারম্নকলা ইনষ্টিটিউট-এর প্রাচ্যকলা বিভাগ-এ অধ্যাপনা করছেন।